রাত ১:১৯,সোমবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং , ৭ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
«» স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি: ছাত্রলীগ সভাপতিসহ আটক ৭ «» খেজুরের রস চুরি করায় পিটিয়ে হত্যা! «» হোসেনপুরে বিএডিসির আলুবীজে কৃষকের মাথায় হাত, অর্ধেক চারাও গজায়নি: ক্ষতিপুরন দাবি «» গফরগাঁওয়ে কান্দিপাড়া আবদুর রহমান ডিগ্রী কলেজের আইসিটি কাম একাডেমিক ভবন উদ্বোধন «» গফরগাঁওয়ে অটোরিকশা চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু «» গফরগাঁওয়ে ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ভবন ও ২টি রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন «» মুজিববর্ষ উপলক্ষে গফরগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা «» কাল রোববার থেকে তিনদিনের শৈত্যপ্রবাহ শুরু «» গফরগাঁওয়ে উপজেলা প্রশাসন আয়োজনে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন «» সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের আয়োজনে হোসেনপুরে স্মরণ সভা

ফেসবুকে মানুষ কেন লাইক পেতে চায়?

দৈনিক বাংলা পত্রিকা ডেস্কঃ

স্যোশাল মিডিয়ায় লাইক আসলে এক ধরনের নেশার মত। গবেষকরা স্মার্টফোনকে স্লট মেশিন বা কেসিনোতে জুয়ার মেশিনের সাথে তুলনা করেছেন। জুয়ার মেশিনের মতই স্মার্টফোন-ও মানুষের মস্তিষ্কে একই রকম অনুভূতির জন্ম দেয়।

অধ্যাপক নাতাশা ডো শুল মনে করেন, জুয়ার মেশিনের নকশাটাই এমন যে, এটা আসক্তি তৈরি করে। তিনি মনে করেন, স্মার্টফোনগুলোও এমনভাবে তৈরি যাতে স্ক্রিনের সামনে মানুষ বেশিক্ষণ থাকে। এভাবেই আসক্তি তৈরি হয়।

ফেসবুক ব্যবহারকারী লেহ পার্লমেন জানান, বেশি করে লাইক পাবার আশায় তিনি পরে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেয়া শুরু করেন। কমিক আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করার আগে পার্লমেন নিজেই একসময় ফেসবুক ডেভেলপার ছিলেন এবং তার টিমই ২০০৭ সালের জুলাই মাসে ‘লাইক বাটন’ আবিষ্কার করে। কিন্তু অদ্ভুত রকমভাবে নিজের তৈরি লাইক-বাটনে নিজেই আসক্ত হয়ে পড়েন পার্লমেন।

ফেসবুকের এই লাইক অপশন এখন ইউটিউব ও টুইটারেও রয়েছে। কমেন্ট লেখার চেয়ে একটি মাত্র ক্লিক করে নিজের প্রতিক্রিয়া জানানো অনেক সহজ। কিন্তু ‘লাইক’ এর ধারণাটা একদিনে তৈরি হয়নি।

পার্লমেন বলেন, ‘লাইক’ নিয়ে জাকারবার্গকে তার অনেক বোঝাতে হয়েছে। অবশেষে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘লাইক’ বাটন চালু হয়। চালুর পরপরই এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

তখন ফেসবুক অ্যাপ দিয়ে মানুষের অন্যতম ৫টি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষার বিষয়টি সামনে এনেছিলেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আলেকজান্ডার কোগান। পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ছিল অকপটতা, সুবুদ্ধি, বহির্মুখিতা, অমায়িকতা ও বাতিকগ্রস্থতা। ব্যক্তি নিজের সম্পর্কে নিজেই ফেসবুকে করা এই পরীক্ষাটা তখন ভাইরাল হয়েছিল।

এই পরীক্ষাগুলো ফেসবুকে যে সব ব্যবহারকারী করতেন তাদের ফেসবুক প্রোফাইল, বয়স ও লিঙ্গসহ আরো বেশ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য তখন গবেষকদের হাতে চলে যেত।

মাইকেল কোসিনস্কি এখন বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। তিনি মনে করেন, কে কোনো বিষয়ে লাইক দিচ্ছেন সেটি দেখেই মানুষের পছন্দ-অপছন্দ, তার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিশ্বাস ও ভাবনা থেকে শুরু করে আরো অনেক কিছুই নিখুঁতভাবে বলে দেয়া যায়।

কিন্তু এখন ফেসবুক ডাটা নিয়ে অনেকটাই কঠোর। অ্যাপ ডেভেলপাররা এখন আর আগের মত যে কোনো ডাটা পান না। কিন্তু ফেসবুক নিজে ঠিকই ব্যবহারকারীর সব ডাটা দেখতে পায়।

এতো বিপুল ডাটা জানা থাকায় ফেসবুক এখন নিউজফিডকে ব্যবহারকারীর পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী সাজানোর সুযোগ পাচ্ছে। যে ব্যক্তি যেই ধরনের কন্টেন্ট যেমন নিউজ বা গান বা অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও দেখতে পছন্দ করেন তার নিউজফিডে সেগুলোই বেশি করে আসছে।

এমনকি রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও এরকম পছন্দ-অপছন্দের বিষয় মেনেই ফেসবুক ব্যবহারকারীর নিউজফিড তৈরি করা হয়। ফলে, এখন ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে বিজ্ঞাপন দেয়া অনেক সহজ হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের আবেগের জায়গাটিকে ফেসবুক হয়তো চাইলে প্রভাবিত করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে।

তবে কোনো কোনো গবেষক মনে করছেন, ফেসবুকের কাছে মানুষের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে প্রচুর তথ্য থাকলেও এটি এখনো মানুষের মনের নিয়ন্ত্রক নয়। কিন্তু বিপুল পরিমাণ কন্টেট দিয়ে ফেসবুক যে মানুষকে দীর্ঘসময় আটকে রাখছে, সেসব থেকে নিজেদের কিভাবে দূরে রাখবো?

এক্ষেত্রে অনেক গবেষক বলছেন, তবে ফেসবুকে যদি অক্সিজেনের মত জরুরি মনে হয়, তাহলে আত্ম-প্রেম বা নিজেকে ভালোবাসাই এর যথার্থ সমাধান হতে পারে।সূত্র বিবিসি বাংলা

দৈনিক বাংলা পত্রিকা / মোঃ তওহিদুল ইসলাম


 
Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।