রাত ১:৩৪,সোমবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং , ৭ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
«» স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি: ছাত্রলীগ সভাপতিসহ আটক ৭ «» খেজুরের রস চুরি করায় পিটিয়ে হত্যা! «» হোসেনপুরে বিএডিসির আলুবীজে কৃষকের মাথায় হাত, অর্ধেক চারাও গজায়নি: ক্ষতিপুরন দাবি «» গফরগাঁওয়ে কান্দিপাড়া আবদুর রহমান ডিগ্রী কলেজের আইসিটি কাম একাডেমিক ভবন উদ্বোধন «» গফরগাঁওয়ে অটোরিকশা চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু «» গফরগাঁওয়ে ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ভবন ও ২টি রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন «» মুজিববর্ষ উপলক্ষে গফরগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা «» কাল রোববার থেকে তিনদিনের শৈত্যপ্রবাহ শুরু «» গফরগাঁওয়ে উপজেলা প্রশাসন আয়োজনে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন «» সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের আয়োজনে হোসেনপুরে স্মরণ সভা

কে সাংবাদিক, কে নয়

ফাইজুস সালেহীন,

সংবাদপত্র কিংবা সাংবাদিকতা সম্পর্কে যখন কাউকে কিছু লিখতে বা বলতে অনুরোধ করা হয়, তখন তিনি পুরোনো কথাগুলোই নতুন করে বলেন । একই কথা বারবার বলা হয় বলেই হয় তো সেইসব বাণীর তাৎপর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। সংবাদপত্রকে বলা হয়ে থাকে ফোর্থ এস্টেট। কেউ কেউ যখন এই ফোর্থ এস্টেটের বাংলা করতে গিয়ে চতুর্থ রাষ্ট্র লেখেন বা বলেন তখন ভিরমি না খেয়ে পারা যায় না  । অভিধানে ইংরেজি ‘স্টেট’ আর ‘এস্টেট’ শব্দের অর্থ মোটেও অভিন্ন নয় । স্থান কাল পাত্রভেদে এস্টেট শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে । এর একটা অর্থ সারি বা শ্রেণী। পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যগণের শ্রেণী অনুযায়ী নির্ধারিত সারিকেও ইংরেজিতে এস্টেট বলা হয়ে থাকে। এডমন্ড বার্ক পার্লামেন্টের সারি অর্থেই সাংবাদিকদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছিলেন। আইরিশ বংশদভূত এই ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এবং রাষ্ট্র চিন্তাবিদ একবার পার্লামেন্টে বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রেস গ্যালারিতে বসা সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেছিলেন যে, ওই যে পার্লামেন্টের ফোর্থ এস্টেট  । সেই থেকে এটি হয়ে গেছে কোটেবল কোটেশন। সাংবাদিকদের বিদ্রুপ করে তিনি এই কথাটি বলেছিলেন নাকি এই পেশার মর্যাদা ও গুরুত্ব বুঝাবার জন্য বলেছিলেন, চারশ বছর পরে আজকে সেটা নির্ণয় করা দুরূহ। তবে এডমন্ড বার্ক যে ধ্যান-ধারণা পোষণ করতেন তাতে সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর মনোভাব শ্রদ্ধাপূর্ণ ছিলো না , এমনটি ভাববার সুযোগ খুবই কম । অষ্টাদশ শতাব্দির দ্বিতিয়ার্ধে ভারতসহ ব্রিটেনের উপনিবেশ সমূহে ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার প্রশ্নে এডমন্ড বার্ক ছিলেন সোচ্চারকণ্ঠ।কাজেই সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো ইতিবাচকই ছিলো। তবে কোনো কোনো অভিধানে ‘ফোর্থ এস্টেট ’ মানে করা হয়েছে ‘ব্যাঙ্গার্থে সংবাদপত্র।’
এডমন্ড বার্কের সময়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সদস্য ছিলেন তিন শ্রেণীর । যাজক, জমিদার ও সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি । এই ছিলো পার্লামেন্টের থ্রি এস্টেট। এই তিনের বাইরে চতুর্থ এস্টেট হচ্ছে সংবাদপত্র । অতঃপর প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক যে, সংবাদপত্র যদি পার্লামেন্টের চতুর্থ এস্টেট বা সারি হয়ও, তাতে এর গুরুত্ব কতটুকুই বা বাড়ে-কমে ! বলা বাহুল্য যে, সমকালীন বিশ্বে পার্লামেন্ট আগের মত নেই । যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও পাকিস্তানসহ অনেক দেশে পার্লামেন্ট দ্বি কক্ষ বিশিষ্ট । বাংলাদেশে পার্লামেন্ট এক কক্ষ বিশিষ্ট । এমতাবস্থায়, কেউ কেউ বলতে পারেন যে, সংবাদপত্রকে চতুর্থ এস্টেট বলার কোনো মানে হয় না। সত্যিই কি তাই? সত্যিই তা কিনতু নয়। আসলে বিষয়টি নির্ভর করে কিভাবে আমরা সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে চাই, তার ওপর। পার্লামেন্ট দ্বিকক্ষই হোক আর এক কক্ষ বিশিষ্টই হোক- সংবাদপত্র নিজের অবস্থান থেকে শক্তিশালি ভূমিকা রাখতে পারে। সেই ভূমিকাটি রাখা সম্ভব তখনই, যখন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে। প্রশ্ন হচ্ছে প্রতিষ্ঠান জিনিস টা কী? এ খুবই কঠিন এক জিজ্ঞাসা । আমরা যখন এই প্রশ্নের মুখোমুখি হই, তখন বিচলিতবোধ না করে পারি না । প্রতিষ্ঠান এমন এক সংহত শক্তির নাম, যেখানে নীতি-নিয়মই শেষ কথা । সেখানে ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাচারিতার কোনে সুযোগ নাই, থাকতে পারে না । কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমাদের সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠানিক বিকাশের মাত্রা মোটেও উল্লেখয়োগ্য নয়। শক্তিশালী সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানও এখানে গড়ে ওঠেনি । সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠান বলতে কী বুঝায়, সেটাও সংবাদপত্রসেবী অনেকের কাছে স্পষ্ট নয় । ফলে প্রেস ফ্রিডম বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও তাৎপর্য হারিয়েছে অনেকাংশে। স্বাধীনতার জায়গাটি যেন বা দখল করে নিয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা।
শুনেছি শহর ও গ্রামে একশ্রেণীর প্রবল প্রতাপশালী সাংবাদিকের আবির্ভাব ঘটেছে, যাদের লোকে সম্মান না করলেও ভয় পায়। কারণ সেই সাংবাদিক রাতকে দিন বানিয়ে দিতে পারেন, তিলকে তাল বানাতে পারেন, তালকে তিলও বানাতে পারেন । এরকম সাংঘাতিক যারা, লোকে তাদের ভয় তো পাবেই। ক্রিমিনালদের কথা অবশ্য আলাদা । দুর্জন যে, সে শুধু সাংবাদিক কেন , যে কোনো সুশীল – সুজনের মুখোমুখি হলে ভীত সন্ত্রস্ত হবে, সেই স্বাভাবিক । কিন্তু বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সাধারণ মানুষ যদি কোনো সাংবাদিককে ভয় পায়, তবে সেটা সাংবাদিক কমিউনিটির জন্য কোনো শুভ বার্তা বহন করে না । এই শ্রেণীর লোক নামে সাংবাদিক হলেও, আসলে অন্যকিছু । প্রকৃতই যে সাংবাদিক, তার কলম ঝলসে উঠবে সত্য ও সুন্দরের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিপক্ষে। অথচ কার্যক্ষেত্রে অনেক সময়ই ঘটে চলেছে তার উল্টোটি । কেন এমন হচ্ছে? এর পশ্চাতে নানান কারণ থাকতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় কারণটি বোধহয় সংবাদপত্রের প্রাতিষ্ঠানিক শৃক্সক্ষলার অভাব। সংবাদপত্রের নাম ব্যবহার করে কে কোথায় কি করছে, কি লেখা হচ্ছে না হচ্ছে এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যাথা নেই। পেশাগত নীতি- নৈতিকতার প্রশ্নটিও বহু ক্ষেত্রে উপেক্ষিত। ফলে নির্বিবাদে প্রসারিত হয়ে চলেছে হলুদ ও অপসাংবাদিকতার দিগন্ত । এরকম বৈরি পরিবেশের মধ্যেও যারা পেশাদারিত্বের প্রশ্নে নিরাপোষ , তাদের অবস্থা টালমাটাল। তারা এই সমাজে নির্বান্ধব হয়ে যাচ্ছেন ক্রমাগত। কিন্তু এই নিরাশার কাল বেশি দিন থাকবে না। বদলাবে, বদলাতে বাধ্য।

বুদবুদ থেকে সৃষ্ট ফেনা কখনই স্থায়ী হয় না। এমনিতেই উবে যায় কিংবা স্রোতে ভেসে যায়।

৥ লেথক-সাংবাদিক ও কথা সাহিত্যিক

 
Express Your Reaction
Like
Love
Haha
Wow
Sad
Angry
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।