বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

গফরগাঁওয়ে তিন ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে, লোকালয়ে ড্রাম চিমনীর ইটভাটা

শাখাওয়াত হোসেন
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ১১২৩৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
গফরগাঁওয়ে তিন ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে, লোকালয়ে ড্রাম চিমনীর ইটভাটা 22 600x337

তিন পাশে ফসলি জমি ,ফলজ ও বনজ গাছপালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর বাড়িঘর। একপাশে শীলা নদী । মাঝে অবৈধ ড্রাম চিমনীর ইটভাটা। এ দশা গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার চামুরথা গ্রামে। প্রতিদিন এমবিবি নামক এই ইটভাটায় কমপক্ষে ৪০০ মন কাঠ পোড়ানো হয় বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা । কাঠ পোড়ানোর কারনে এই ভাটা থেকে সারাক্ষন কালো ধোঁয়া বের হয়। ফেেল পাশর্^বর্তী ক্ষেতের ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে, ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁিক। ইটভাটার মালিকরা ইটভাটা স্থাপনে কৃষকের কৃষি জমি, সরকারি হালট, শীলা নদীর সেচের ড্রেইন জোর পূর্বক দখল করে নিয়েছে।
স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, ফলফলাদির গাছ, সবুজের ফসলের মাঠ নিয়ে শীলা নদীর পাড়ে চামুরথা গাছ । গ্রামটিতে হাজারখানের পরিবার বাস করে। এরই মধ্যে মোঃ হাবিবুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি যৌথ মালিকানায় দুই বছর আগে গ্রামের শামছুল হক ফাজিল মাদ্রাসার পাশে, লোকালয়ে, তিন ফসলি জমিতে এমবিবি নামক অবৈধ, অনুমোদনহীন ড্রাম চিমনীর ইটভাটাটি স্থাপন করে। এরপর থেকেই গ্রামটিতে এখন ঝড়ে যাচ্ছে আম, লিচু, পেয়ারা ও ডাবের গুটি। নষ্ট হচ্ছে শাকসবজি ও ফসলের জমি। মাঝে মধ্যেই মারা যাচ্ছে কবুতরসহ গৃহপালিত হাসঁ-মুরগি। শ^াসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন গ্রামের বৃদ্ধ ও শিশু ও ইটভাটার পপাশর্^বর্তী শামছুল হক ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। ইটভাটার পাশে শীলা নদীতে মাছের আধার কমে গেছে।
চলতি মৌসুমে এমবিবি ইটভাটাটি চালুর উদ্যোগ নিলেই স্থানীয় এলাকাবাসী বাঁধা দেয়। তারা জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিহীন এই অবৈধ ইটভাটাটি বন্ধের জন্য পরিবেশ অদিদপ্তরে বার বার ধর্না দেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের বিভাগীয় পরিচালক ফরিদ আহমদে ও উপপরিচালক মিহির লাল সরকারের নেতৃত্বে একটি টিম গত ২১ নভেম্বর শনিবার এই ইটভাটায় অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এমবিবি ইটভাটার মালিক হাবিবুল্লাহকে অবিলম্বে এই অবৈধ ইটভাটার সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্ত এসব তোয়াক্কা না করে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানের তিন দিন পরেই মালিক হাবিবুল্লাহ এই ইটভাটায় ড্রামচিমনি স্থাপন করে, আগুন দিয়ে ভাটাটি চালু করে দেন।
নিরীহ গ্রামবাসী ও কৃষকরা প্রতিবাদ করেও ফল পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীরা জানায়, ইটভাটার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় সহজেই কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। মালিকরা ভাটার জন্য অন্যের জমি ও সরকারি হালট (রাস্তা) দখল করে নিয়েছেন। শীলা নদীর সেচ ড্রেইন দখল করে নেওয়ায় কৃষকের ৪০০ হেক্টর জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকবে।
এ ব্যাপারে ইটভাটার মালিক মোঃ হাবিবুল্লাহ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আমাদের ইটভাটা পরিদর্শন করে গিয়েছেন। তারা আমাদের কিছুই বলেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, লোকালয়, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক মোঃ ফরিদ আহহেদ বলেন, ড্রাম চিমনীর এই অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। খবর পেয়েছি নির্দেশ অমান্য করে ইটভাটাটি চালু করা হয়েছে। অচিরেই অভিযান করে ইটভাটাটি উচ্ছেদ করে দেওয়া হবে।

দৈনিক বাংলা পত্রিকা / আতাউর রহমান মিন্টু

Express Your Reaction
Like  গফরগাঁওয়ে তিন ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে, লোকালয়ে ড্রাম চিমনীর ইটভাটা like
Love  গফরগাঁওয়ে তিন ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে, লোকালয়ে ড্রাম চিমনীর ইটভাটা love
Haha  গফরগাঁওয়ে তিন ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে, লোকালয়ে ড্রাম চিমনীর ইটভাটা haha
Wow  গফরগাঁওয়ে তিন ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে, লোকালয়ে ড্রাম চিমনীর ইটভাটা wow
Sad  গফরগাঁওয়ে তিন ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে, লোকালয়ে ড্রাম চিমনীর ইটভাটা sad
Angry  গফরগাঁওয়ে তিন ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে, লোকালয়ে ড্রাম চিমনীর ইটভাটা angry

Facebook Comments

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2018 dainikbanglapatrika
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Aanin Mahmodul
themebazar-2281